কম তেল-মসলায় গন্ধহীন খাসির বট বা ভুঁড়ি ভুনার পারফেক্ট রেসিপি | Rajshahi Style Bot Porota
ঐতিহ্যবাহী স্বাদে খাসির ভুঁড়ি ভুনা: পারফেক্ট ও গন্ধহীন বট রান্নার সহজ রহস্য
বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতির এক অনন্য এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম হলো 'বট' বা 'ভুঁড়ি ভুনা'। কোরবানি ঈদ কিংবা যেকোনো বিশেষ আয়োজনে পরোটা, লুচি কিংবা গরম ভাতের সাথে খাসির ভুঁড়ি ভুনার জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের (যেমন রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল) বিখ্যাত 'বট-পরোটা'র নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে না এমন ভোজনরসিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে অনেকেই এর তীব্র গন্ধ এবং পরিষ্কার করার ঝামেলার কারণে ঘরে এটি রান্না করতে চান না।
সঠিক নিয়ম মেনে রান্না করলে ভুঁড়ির কোনো গন্ধ তো থাকবেই না, বরং এর স্বাদ মাংসকেও হার মানাবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কম তেল-মসলায় এবং কম সময়ে কীভাবে তৈরি করবেন পারফেক্ট ভুনা স্টাইলের খাসির বট।
প্রথম ধাপ: ভুঁড়ি পরিষ্কার ও কাটার সঠিক পদ্ধতি
ভুঁড়ি রান্নার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ভুঁড়ির গায়ে লেগে থাকা কালো অংশ ও ময়লা দূর করতে প্রথমে ফুটন্ত গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে ভুঁড়িটি কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর চামচ বা ছুরি দিয়ে ঘষলেই ওপরের কালো আস্তরণটি খুব সহজে উঠে আসে। পরিষ্কার করার পর ভুঁড়িটি ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট বা মাঝারি কিউব আকারে কেটে নিতে হবে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
পরিষ্কার করা খাসির ভুঁড়ি বা বট
পেঁয়াজ কুচি ও আস্ত রসুনের কোয়া
আদা, রসুন ও জিরা বাটা
হলুদ, মরিচ ও ধনে গুঁড়ো
আস্ত গরম মসলা (তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ)
কাঁচা মরিচ ও টমেটো কুচি
রান্নার তেল ও পরিমাণমতো লবণ
ভাজা গরম মসলা গুঁড়ো (সবশেষে দেওয়ার জন্য)
প্রস্তুত প্রণালী (ধাপ অনুসারে রান্না)
১. মসলা ফোটানো ও ভুঁড়ি সেদ্ধ:
কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে প্রথমে তেজপাতা, এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দিন। সুগন্ধ বের হলে কেটে রাখা ভুঁড়ির টুকরোগুলো দিয়ে দিন। এবার এতে পরিমাণমতো হলুদ ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে ৫-৭ মিনিট ঢেকে রাখুন। ভুঁড়ি থেকে যে পানি বের হবে, তাতেই এটি আধা-সেদ্ধ হয়ে আসবে।
২. মসলা কষানো:
পানি শুকিয়ে আসলে এর মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা ও জিরা বাটা দিয়ে দিন। সাথে মরিচ ও ধনে গুঁড়ো যোগ করুন। সামান্য পানি দিয়ে মসলার সাথে ভুঁড়ি খুব ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। ভুঁড়ি যত ভালো কষানো হবে, এর ভেতরের কাঁচা গন্ধ তত দ্রুত দূর হয়ে যাবে।
৩. পেঁয়াজ ও রসুন যোগ করা:
ভুঁড়ি কষানো হলে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ এবং কয়েকটি আস্ত রসুনের কোয়া দিয়ে দিন। রসুনের কোয়া ভুঁড়ি ভুনার স্বাদ অনেক বাড়িয়ে দেয়। পেঁয়াজ নরম হওয়া পর্যন্ত আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন।
৪. ঝোলের পানি ও ভুনা করা:
এবার ভুঁড়ি পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়ার জন্য পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে কড়াইটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন এবং মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ঝোলের পানি শুকিয়ে যখন তেল ওপরে ভেসে উঠবে, তখন ঢাকনা খুলে দিন। এবার এতে টমেটো কুচি ও সামান্য গরম মসলার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন। ভুঁড়িটি একদম ভাজা ভাজা ও গাঢ় বাদামি বা লালচে রঙ ধারণ করা পর্যন্ত কড়া আঁচে ভুনা করে নিতে হবে।
পরিবেশন
ভুঁড়ি থেকে যখন তেল পুরোপুরি ছেড়ে দেবে এবং একটি সুন্দর ভাজা সুগন্ধ বের হবে, তখন বুঝবেন আপনার পারফেক্ট খাসির বট ভুনা তৈরি। চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরোটা, রুটি, চিঁড়ার পোলাও কিংবা সাদা ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।
পুষ্টি ও সতর্কতা
খাসির ভুঁড়ি প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজের একটি ভালো উৎস। তবে এতে কোলস্টেরলের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। তাই রান্নার সময় অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো এবং উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা থাকলে এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। ঘরে তৈরি এই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু রেসিপিটি আপনার পরবর্তী ঘরোয়া আয়োজনে যোগ করতে পারেন নিশ্চিতভাবেই!
কোন মন্তব্য নেই