Header Ads

ad728
  • Breaking News

    Beautiful Bangladeshi Parrot | গাছে টিয়া পাখির বাসা ও বাচ্চা খাওয়ানোর অপূর্ব দৃশ্য

     


    মাতৃত্বের পরম মমতা: বন্য টিয়া পাখির বাসা ও ছানা প্রতিপালনের অপূর্ব উপাখ্যান

    প্রকৃতি তার নিজের খেয়ালে প্রতিনিয়ত কত না সুন্দর দৃশ্য আমাদের উপহার দেয়, যার অনেক কিছুই আমাদের ব্যস্ত নাগরিক জীবনের আড়ালে রয়ে যায়। তেমনই এক চোখ জুড়ানো এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য ধরা পড়েছে একটি ছোট্ট অথচ অনন্য ভিডিওচিত্রে। সবুজ বাংলার চিরচেনা পাখি টিয়া (Rose-ringed Parakeet)—যার সৌন্দর্য এবং চঞ্চলতা আমাদের সবারই চেনা। কিন্তু এই বন্য পাখিদের পারিবারিক জীবন, বিশেষ করে তাদের মাতৃত্বের রূপটি কতটা গভীর ও মমতাময় হতে পারে, তা এই ভিডিওটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

    প্রকৃতির বুকে নিভৃত এক আশ্রয়

    ভিডিওটির শুরুতে ঘন সবুজ পাতার আড়ালে একটি গাছের সন্ধান মেলে। বুনো পরিবেশের এই শান্ত-স্নিগ্ধ আবহেই মূলত লুকিয়ে আছে এক নতুন জীবনের গল্প। সাধারণ মানুষ যখন চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগে মগ্ন, তখন এই বন্য পাখিরা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি রচনা করে বনের কোনো এক নির্জন গাছের কোটরে।

    সাধারণত টিয়া পাখিরা নিজেদের ধারালো ঠোঁট দিয়ে গাছের নরম কিংবা পুরনো কাঠে গর্ত করে অথবা কাঠঠোকরার পরিত্যক্ত বাসায় নিজেদের থাকার জায়গা করে নেয়। এই প্রাকৃতিক কোটরগুলো কেবল তাদের রাত কাটানোর আশ্রয়ই নয়, বরং ঝড়-বৃষ্টি এবং অন্যান্য শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে তাদের ডিম ও নবজাতক ছানাদের রক্ষা করার এক নিরাপদ দুর্গ।

    গাছের কোটরে নতুন প্রাণের স্পন্দন

    ভিডিওর একপর্যায়ে ক্যামেরার লেন্স যখন গাছের একটি নির্দিষ্ট কোটরের দিকে তাক করা হয়, তখন দেখা যায় এক অসাধারণ দৃশ্য। কোটরের গোল ছিদ্রটি দিয়ে উঁকি দিচ্ছে দুটি লাল ঠোঁট ও সবুজ পালকের ছোট ছোট মাথা। এরা আর কেউ নয়, এই বাসার নতুন অতিথি—মা টিয়া পাখির আদরের ছানা বা বাচ্চা।

    বন্য পরিবেশে পাখির ছানাদের বড় করে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর থেকে শুরু হয় বাবা ও মা পাখির এক অক্লান্ত লড়াই। বাচ্চাদের ডানায় যতক্ষণ না ওড়ার মতো পালক গজাচ্ছে এবং তারা নিজেরা খাবার শিকার করতে শিখছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অন্ধকার কোটরটিই তাদের পুরো পৃথিবী।

    পরম মমতায় খাবার খাওয়ানোর চিরন্তন দৃশ্য

    এই ভিডিওটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন মা টিয়া পাখিটি খাবার নিয়ে তার বাসায় ফিরে আসে। আমরা দেখতে পাই, মা পাখিটি গাছের ডাল বেয়ে পরম সতর্কতায় কোটরের মুখে এসে দাঁড়ায়। মায়ের আগমন টের পেয়েই কোটরের ভেতর থেকে চঞ্চল হয়ে ওঠে ক্ষুধার্ত ছানাগুলো। তারা মুখ উঁচিয়ে মায়ের কাছ থেকে খাবার পাওয়ার আকুতি জানাতে থাকে।

    মা টিয়া পাখি অত্যন্ত ধৈর্য ও ভালোবাসার সাথে নিজের মুখ থেকে খাবার উগরে (Regurgitation প্রক্রিয়ায়) সরাসরি বাচ্চার হা করা ঠোঁটের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেয়। পাখিদের ক্ষেত্রে এই খাবার খাওয়ানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা পাখিটি প্রাকৃতিকভাবেই বুঝতে পারে কোন বাচ্চার কতটুকু খাবারের প্রয়োজন এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সে দায়িত্ব পালন করে।

    বন্য জীবনে খাবারের সন্ধানে মা পাখিকে মাইলের পর মাইল উড়তে হয়। নানা রকম ফল, বীজ ও শস্যদানা সংগ্রহ করে তা নিজের পেটে বা মুখে করে নিয়ে আসে ছানাদের জন্য। নিজের ক্ষুধার কথা ভুলে গিয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার এই যে চিরন্তন চিত্র, তা প্রমাণ করে যে মাতৃত্বের টান কেবল মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীর হৃদয়ে সমানভাবে প্রবহমান।

    উপসংহার

    ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের এই সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য কতটা সমৃদ্ধ এবং সুন্দর। বন্য প্রাণীদের এই ধরনের প্রাকৃতিক আচরণ অবলোকন করা কেবল আমাদের চোখের শান্তিই দেয় না, বরং তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রকৃতির এই সুন্দর সৃষ্টিগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য বন্য পাখি ও তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728